ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি এরদোয়ানের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৩-০৪-২০২৬ ০৫:৩২:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৪-২০২৬ ০৫:৩২:৩১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
এবার দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তাই হুঙ্কারে ইসরায়েল ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই হুমকি দিয়েছেন।
তার জবাবে ইসরায়েলি নেতাদের পাল্টা আক্রমণাত্মক মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। আর এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বলছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান রোববার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে কারাবাখ ও লিবিয়ায় যেমন হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, তেমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও নেয়া হতে পারে।
ইস্তাম্বুলে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়া-পলিটিক্যাল পার্টিস কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, “রক্তে রঞ্জিত এই গণহত্যার নেটওয়ার্ক কোনও নিয়ম-নীতি মানছে না, মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে নিরীহ শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের ১২ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।”
এরদোয়ান ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া একটি বিতর্কিত আইনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এটি মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।”
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এরদোয়ান আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যা করছে, তা ঠেকাতে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা যেমন কারাবাখে গিয়েছি, যেমন লিবিয়ায় গিয়েছি, তেমনই তাদের বিরুদ্ধেও যাব। আমাদের সামনে কোনও বাধা নেই- শুধু শক্তিশালী হতে হবে।”
এরদোয়ানের এই বক্তব্যকে ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষায় তুরস্কের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ‘সুমুদ’ গাজা বহরে নৌ-অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় গ্রেটা থুনবার্গসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তুরস্ক নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই অভিযোগের জেরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তুরস্ক বলছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি নেতারা এরদোয়ানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাকে ভণ্ডামির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে পৃথক পোস্টে নেতানিয়াহু, কাটজ ও বেন-গভির এরদোয়ানের সমালোচনা করেন। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এরদোয়ান নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। এর জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুকে ‘আমাদের সময়ের হিটলার’ বলে আখ্যা দেয়। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স